কর্পোরেট জগতের শীর্ষে যাওয়ার গোপন সূত্র
আপনার শেয়ার করা ভিডিওটি রবি-র সাবেক সিইও (Ex-CEO) মাহতাব উদ্দিন আহমেদ-এর একটি অসাধারণ পডকাস্ট। এখানে তিনি কর্পোরেট জগতের শীর্ষে যাওয়ার গোপন সূত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এর প্রভাব এবং কেন গড়পড়তা বা মাঝারি মানের ছাত্ররাই প্রায়শই বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ভিডিওর মূল বিষয়বস্তু নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ৯০% সিইও কেন 'অ্যাভারেজ' ছাত্র হয়?
মাহতাব উদ্দিন আহমেদ ব্যাখ্যা করেছেন যে, পুঁথিগত বিদ্যায় যারা সেরা (Top Students), তারা অনেক সময় নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে চিন্তা করতে পারে না। অন্যদিকে, মাঝারি মানের ছাত্ররা প্রতিকূলতা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে শেখে [
সফট স্কিল বনাম হার্ড স্কিল: সিইও হওয়ার জন্য ৭০% সফট স্কিল (মানুষের সাথে মেশা, নেতৃত্ব) এবং ৩০% হার্ড স্কিল (কারিগরি জ্ঞান) প্রয়োজন [
]।26:59 লিডারশিপ: একজন নেতা কেবল নিজের দক্ষতা দিয়ে নয়, বরং পুরো টিমকে অনুপ্রাণিত করে লক্ষ্য অর্জন করেন।
২. ২০৩০ সালের চাকুরির বাজার ও এআই (AI)
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ৯ কোটি ২০ লক্ষ চাকুরি বিলুপ্ত হবে, কিন্তু তার বিপরীতে ১৭ কোটি ২০ লক্ষ নতুন চাকুরির সুযোগ তৈরি হবে [
ঝুঁকিপূর্ণ পেশা: ডাটা এন্ট্রি, সাধারণ অ্যাকাউন্টিং এবং যেসব কাজ ধাপে ধাপে করা যায় (Automated), সেগুলো এআই দখল করে নেবে [
]।11:57 নিরাপদ পেশা: এমন পেশা যেখানে মানুষের ছোঁয়া বা সৃজনশীলতা প্রয়োজন (যেমন- প্লাম্বার, কার্পেন্টার বা জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী), সেগুলো অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে [
]।08:20
৩. বস বা লিডার হওয়ার ফর্মুলা: Lovable Star
তিনি কর্মীদের এবং বসদের চারটি ভাগে ভাগ করেছেন [
১. Competent Jerk: কাজে খুব দক্ষ কিন্তু কেউ তাকে পছন্দ করে না।
২. Lovable Fool: সবাই তাকে ভালোবাসে কিন্তু কাজে অদক্ষ।
৩. Incompetent Jerk: কাজেও খারাপ, আচরণেও খারাপ।
৪. Lovable Star: কাজেও দক্ষ এবং মানুষ হিসেবেও প্রিয়। একজন সফল সিইও হতে হলে আপনাকে এই স্তরে পৌঁছাতে হবে [
৪. লিডারশিপের কিছু কড়াকড়ি কৌশল
অস্বস্তি তৈরি করা (Creating Discomfort): টিমকে সবসময় আরামদায়ক অবস্থায় (Comfort Zone) রাখলে উন্নতি হয় না। তাদের মাঝে সৃজনশীল অস্বস্তি বজায় রাখতে হয় যাতে তারা প্রতিদিন আরও ভালো করার চেষ্টা করে [
]।43:59 পজিটিভ কনফ্লিক্ট (Positive Conflict): সিইও হিসেবে তিনি চান তার ফিন্যান্স এবং মার্কেটিং টিমের মধ্যে বিতর্ক হোক। এই বিতর্ক থেকে নতুন নতুন আইডিয়া বেরিয়ে আসে [
]।57:21
৫. সিএমএ (CMA) ডিগ্রির গুরুত্ব
মাহতাব আহমেদ নিজে একজন পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তিনি জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে সিএমএ ডিগ্রিধারীরা কস্ট কন্ট্রোল এবং ম্যানেজমেন্ট ডিসিশনে অত্যন্ত দক্ষ হয়, যা তাদের দ্রুত সিইও হওয়ার পথে এগিয়ে দেয় [
Comments
Post a Comment