Posts

টক দই বা Curd/Yogurt

  টক দই বা Curd/Yogurt কেবল একটি খাবার নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক ঔষধ। বিশেষ করে আমাদের মতো গরমের দেশে দুপুরে ভাতের সাথে বা সালাদে টক দই মেশানো শরীরের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। নিচে টক দইয়ের প্রধান উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হলো: ১. প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক (Probiotics) টক দইয়ের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এতে থাকা 'লাইভ ব্যাকটেরিয়া' বা উপকারি অণুজীব। এটি পাকস্থলীর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। যারা গ্যাস্ট্রিক বা আইবিএস (IBS)-এর সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি জাদুর মতো কাজ করে। ২. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনের ভাণ্ডার দুধের চেয়েও টক দই অনেক সময় বেশি উপকারি কারণ এটি সহজে হজম হয় (ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলেও অনেকে দই খেতে পারেন)। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম , ভিটামিন B12 , ফসফরাস এবং রিবোফ্লাভিন থাকে, যা হাড় ও দাঁত মজবুত করে। ৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো নিয়মিত টক দই খেলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, দইয়ে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম এবং জিঙ্ক শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়। ৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট বার্নিং টক দইয়ে...

খাবারের আগে সালাদ খাওয়া!

  খাবারের আগে সালাদ খাওয়া একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং বিজ্ঞানসম্মত অভ্যাস। পুষ্টিবিদরা একে "Pre-loading" বলেন। দুপুরের বা রাতের মূল খাবার খাওয়ার ২০-৩০ মিনিট আগে এক বাটি সালাদ খেলে আপনি বেশ কিছু চমৎকার সুবিধা পাবেন: ১. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত ক্যালরি রোধ সালাদে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে। খাবারের শুরুতে সালাদ খেলে পেট অনেকটা ভরে যায়, ফলে মূল খাবারের সময় আপনি অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট (ভাত বা রুটি) কম খান। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খাবারের আগে সালাদ খায়, তারা গড়ে ৭% থেকে ১২% কম ক্যালরি গ্রহণ করে। ২. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ সালাদের ফাইবার রক্তে গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করে দেয়। ফলে খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ করে ব্লাড সুগার বেড়ে যায় না (Spike হয় না)। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এবং দীর্ঘমেয়াদী এনার্জি ধরে রাখার জন্য খুব জরুরি। ৩. হজম প্রক্রিয়া উন্নত করা কাঁচা সবজিতে প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে যা হজমে সাহায্য করে। শুরুতে সালাদ খেলে পাকস্থলী মূল খাবার হজম করার জন্য প্রস্তুত হয়। এর ফলে গ্যাস, অম্বল বা বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা অনেকটা কমে যায়। ৪. পুষ্টির সর্বোচ্চ শোষণ কিছু ভিটামিন (যেমন- ভিটামিন...

কালোজিরা নিয়ে হওয়া প্রধান গবেষণা ও ফলাফল তুলে ধরা হলো:

  কালোজিরা (Nigella Sativa) বা 'Black Seed' নিয়ে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। একে "সব রোগের মহৌষধ" বলা হয় এবং বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। নিচে কালোজিরা নিয়ে হওয়া প্রধান গবেষণা ও ফলাফলগুলো তুলে ধরা হলো: ১. থাইমোকুইনোন (Thymoquinone) নিয়ে গবেষণা কালোজিরার মূল কার্যকর উপাদান হলো থাইমোকুইনোন (TQ) । গবেষণা: ক্যান্সার কোষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। ফলাফল: দেখা গেছে যে, TQ ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে এবং অ্যাপোপটোসিস (ক্যান্সার কোষের মৃত্যু) ঘটাতে সাহায্য করে। এটি বিশেষ করে স্তন, অগ্ন্যাশয় এবং কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২. অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট (Asthma Research) কালোজিরা ফুসফুসের শ্বাসনালীকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে। গবেষণা: একদল গবেষক হাঁপানি রোগীদের ওপর কালোজিরার তেলের নির্যাস দিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন। ফলাফল: দেখা গেছে যে, এটি প্রচলিত অনেক ওষুধের মতো কার্যকরভাবে ব্রঙ্কোডাইলেশন (Bronchodilation) ঘটায়, যা শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করে। ৩. ডায়...